প্রেম না প্রতারণা?? অনুষ্কা ও সোহিনির টাকার গল্প: আর্থিক সচেতনতা (পর্ব ৭) ::শ্রেয়সী
চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা (The Betrayal)’ফিন-সিস্টার্স’ তখন তাদের নতুন অ্যাপের সেকেন্ড ভার্সন লঞ্চ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অ্যাপে ইউজারদের সমস্ত পার্সোনাল ডেটা, ইনভেস্টমেন্ট প্যাটার্ন এবং অ্যালগরিদম ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। অনুষ্কা অন্ধ ভালোবাসায় বিশ্বাস করে এই নতুন অ্যাপের সম্পূর্ণ সোর্স কোড এবং বিজনেস মডেলের ড্রাফট নীলাভের সাথে শেয়ার করেছিল, যাতে নীলাভ তার ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা দিয়ে সেটা একটু রিভিউ করে দেয়। সোহিনি এটা জানত না।লঞ্চের ঠিক তিন দিন আগে, বাজারে একটা বজ্রপাত নেমে এল। নীলাভের কোম্পানি হঠাৎ করেই এক নতুন অ্যাপ বাজারে নিয়ে এল, যার নাম ‘ফিন-গুরু’। আর সেই অ্যাপের ইন্টারফেস, অ্যালগরিদম থেকে শুরু করে মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি—সবকিছু ছিল ‘ফিন-সিস্টার্স’-এর হুবহু নকল! শুধু তাই নয়, নীলাভের কোম্পানি রাতারাতি ‘ফিন-সিস্টার্স’-এর প্রধান তিনজন ডেটা অ্যানালিস্টকে দ্বিগুণ বেতনে নিজেদের সংস্থায় টেনে নিল।অনুষ্কা যখন নীলাভের অফিসে ছুটে গেল, তখন নীলাভের মুখে সেই চেনা প্রেমিকসুলভ হাসিটা ছিল না। সে অত্যন্ত ঠান্ডা গলায় বলল, “বিজনেস ইজ বিজনেস, অনু। ইমোশনের কোনো জায়গা নেই এখানে। তোমার আইডিয়াটা ভালো ছিল, কিন্তু এক্সিকিউট করার ক্ষমতা আমার বেশি। তুমি চাইলে আমার কোম্পানিতে জুনিয়র পার্টনার হিসেবে যোগ দিতে পারো।” অনুষ্কার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেল। যাকে সে নিজের জীবন এবং ভবিষ্যৎ সঁপে দিয়েছিল, সে-ই তার পিঠে সবচেয়ে বড় ছুরিটা মারল।
অফিসে ফিরে অনুষ্কা কান্নায় ভেঙে পড়ল। সে সোহিনির সামনে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে বলল, “আমাকে ক্ষমা করে দে সোহিনি। আমি তোর কথা শুনিনি। আমার অন্ধ বিশ্বাসের জন্য আজ আমাদের ‘ফিন-সিস্টার্স’ ধ্বংসের মুখে। আমাদের সব ডেটা, আমাদের কোড নীলাভ চুরি করেছে।”সোহিনির চোখে তখন জল ছিল না, ছিল এক জ্বলন্ত আগুন। সে অনুঙ্কাকে টেনে তুলল এবং সপাটে একটা চড় মারল। বলল, “এই চড়টা তোর ভুলের জন্য নয়, এই চড়টা তোর এই ভেঙে পড়ার জন্য! অনুষ্কা, তুই কার সাথে আছিস ভুলে যাস না। ব্যবসা চুরির বদলা আমরা কান্নাকাটি করে নয়, বাজারের মাঠে দাঁড়িয়ে নেব।”সোহিনি তৎক্ষণাৎ লিগ্যাল টিমের সাথে বসল। নীলাভের বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘন এবং ডেটা চুরির মামলা ঠুকে দেওয়া হলো। কিন্তু আইনি লড়াই দীর্ঘমেয়াদী হয়, আর নীলাভের পেছনে বড় বড় ইনভেস্টরদের হাত ছিল। বাজার তখন ‘ফিন-সিস্টার্স’-কে মৃত বলে ধরে নিয়েছে। চারদিকে গ্রাহকদের মনে সংশয়—তাদের ডেটা কি সত্যিই সুরক্ষিত? প্রতিদিন ইউজাররা অ্যাপ আনইনস্টল করতে শুরু করল। কোম্পানি চরম আর্থিক সংকটে পড়ল।