ফিন-সিস্টার্স’ যখন সাফল্যের সিঁড়ি চড়ছিল, ঠিক তখনই অনুষ্কার জীবনে প্রবেশ ঘটল নীলাভের। নীলাভ ছিল এক বহুজাতিক ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট, যে এখন নিজের একটি পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট ফার্ম চালায়। এক কর্পোরেট সেমিনারে অনুষ্কার চমৎকার বক্তব্য শুনে নীলাভ মুগ্ধ হয়েছিল।
প্রথম প্রথম আলোচনাটা শুধু ব্যবসা আর ফাইন্যান্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে কফির কাপের আড্ডায় কখন যে ব্যক্তিগত জীবনের গল্প জুড়ে গেল, তা অনুষ্কা নিজেও টের পায়নি। নীলাভের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, মার্জিত রুচি আর আর্থিক বাজারের ওপর গভীর দখল অনুঙ্কাকে তীব্রভাবে আকর্ষণ করতে লাগল।
সোহিনি প্রথম থেকেই অনুষ্কার এই পরিবর্তন লক্ষ করছিল। একদিন অফিস শেষে সে অনুঙ্কাকে আলতো হেসে বলল, “কী রে অনু, আজকাল ল্যাপটপের স্ক্রিনের চেয়ে ফোনের স্ক্রিনে বেশি হাসিস যে? বাজারের গ্রাফ ছাড়া অন্য কোনো গ্রাফ কি মনের ভেতরে ওপর-নিচ করছে?” অনুষ্কা লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল, সে নীলাভের প্রেমে পড়েছে। নীলাভও দেরি করেনি, এক বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় অনুষ্কার হাত ধরে সে নিজের মনের কথা জানিয়ে দিল। অনুষ্কার জীবনটা তখন এক নিখুঁত রূপকথা—একদিকে সফল ব্যবসা, অন্যদিকে মনের মতো জীবনসঙ্গী।
প্রেমের প্রথম কয়েকটা মাস স্বপ্নের মতো কাটলেও, ব্যবসার টেবিলে আস্তে আস্তে একটা সূক্ষ্ম পরিবর্তন আসতে শুরু করল। নীলাভ ‘ফিন-সিস্টার্স’-এর ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলোতে একটু বেশি মাত্রায় মাথা গলাতে শুরু করল। সে অনুঙ্কাকে পরামর্শ দিল, “অনু, তোমরা এখনো শুধু মহিলাদের ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি নিয়ে পড়ে আছ। এতে বড় প্রফিট আসবে না। আমাদের উচিত এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বড় বড় কোম্পানির হাই-রিস্ক পিএমএস (Portfolio Management Services) বিক্রি করা।”
অনুষ্কা নীলাভের এই আইডিয়াটা সোহিনির সামনে রাখতেই সোহিনি সরাসরি তা নাকচ করে দিল। সোহিনি বলল, “অনু, আমাদের স্টার্ট-আপের মূল ভিত্তি হলো মধ্যবিত্ত ও সাধারণ নারীদের ভরসা। আমরা যদি কমিশন খাওয়ার জন্য হাই-রিস্ক প্রোডাক্ট তাদের ওপর চাপিয়ে দিই, তবে আমরা আমাদের সততা হারাব।”
এই নিয়ে প্রথমবার অনুষ্কা আর সোহিনির মধ্যে মৃদু তর্ক হলো। অনুষ্কার মনে হলো সোহিনি বড্ড বেশি রক্ষণশীল, সে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বড় ঝুঁকি নিতে ভয় পাচ্ছে। অন্য দিকে, নীলাভ অনুষ্কার কানে মন্ত্র দিতে লাগল, “সোহিনি মেয়েটা ভালো, কিন্তু ওর চিন্তা-ভাবনাটা এখনো সেই মধ্যবিত্ত গণ্ডিতেই আটকে আছে। ও তোমাকে বড় লিগে খেলতে দেবে না।” অনুষ্কা নিজের অজান্তেই সোহিনির চেয়ে নীলাভের কথার ওপর বেশি ভরসা করতে শুরু করল।