নতুন দিগন্ত—’ফিন-সিস্টার্স’ অনুষ্কা ও সোহিনির টাকার গল্প: আর্থিক সচেতনতা (পর্ব ৫) ::শ্রেয়সী
পঞ্চম পর্ব: নতুন দিগন্ত—’ফিন-সিস্টার্স’ স্টার্ট-আপ
বাজারের এই কঠিন পরিস্থিতিকে যেভাবে অনুষ্কা ও সোহিনি সামাল দিয়েছিল, সেই গল্প তাদের বন্ধুমহলে ছড়িয়ে পড়ল। অনুষ্কার অফিসের সহকর্মীরা, পাড়ার প্রতিবেশীরা, এমনকি তাদের চেনা-পরিচিত অনেক কর্মজীবী মহিলারাও সোহিনি আর অনুষ্কার কাছে এসে পরামর্শ চাইতে লাগলেন। কেউ জানতে চান কীভাবে সঞ্চয় শুরু করবেন, কেউ বোঝেন না কর (Tax) কীভাবে বাঁচাবেন।একদিন রাতে অনুষ্কার মাথায় একটা দারুণ আইডিয়া এল। সে সোহিনিকে বলল, “সোহিনি, আমরা যে আর্থিক স্বাধীনতা পেয়েছি, সেটা তো আমাদের চারপাশের লক্ষ লক্ষ নারীরও প্রয়োজন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও কর্মজীবী মহিলারা এখনো টাকা-পয়সার সিদ্ধান্তের জন্য বাড়ির পুরুষদের ওপর নির্ভর করেন। আমরা কেন আমাদের এই জ্ঞানকে একটা ব্যবসায় রূপ দিচ্ছি না?”সোহিনির চোখ দুটো চকচক করে উঠল, “তুই ঠিক বলেছিস অনু! আমরা একটা ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি ও কনসালটেন্সি প্ল্যাটফর্ম শুরু করতে পারি। নাম দেব—’ফিন-সিস্টার্স’ (FinSisters)।”দুজনে মিলে শুরু হলো এক নতুন যুদ্ধ। এবার তারা শুধু নিজেদের টাকা নয়, অন্যের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব নিল:ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম: তারা একটা সহজ অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট তৈরি করল, যেখানে খুব সহজ ভাষায় (কোনো কঠিন অর্থনৈতিক জটিল পরিভাষা ছাড়া) নারীদের জন্য বিনিয়োগের পাঠ দেওয়া হলো।ওয়ান-অন-ওয়ান কাউন্সেলিং: গৃহবধূ থেকে শুরু করে কর্পোরেট নারী—সবার জন্য আলাদা আলাদা বাজেট ও বিনিয়োগের মডিউল তৈরি করা হলো।ওয়ার্কশপ: প্রতি শনি ও রবিবার তারা বিভিন্ন আবাসন এবং অফিসে গিয়ে ‘মহিলা ও আর্থিক স্বাধীনতা’ বিষয়ে ছোট ছোট সেমিনার করতে লাগল।প্রথম ছ-মাস তাদের খুব কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছিল। কিন্তু অনুষ্কার তুখোড় মার্কেটিং বুদ্ধি আর সোহিনির নিখুঁত আর্থিক বিশ্লেষণ এই জুটিকে অপরাজেয় করে তুলল। এক বছরের মধ্যে ‘ফিন-সিস্টার্স’ স্টার্ট-আপটি শহরের অন্যতম সফল নারী-পরিচালিত উদ্যোগে পরিণত হলো। একটি বড় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড থেকে তারা মোটা অঙ্কের আর্থিক বিনিয়োগও (Funding) পেল।আজ ‘ফিন-সিস্টার্স’-এর হেড অফিসে নিজের কেবিনে বসে কফির কাপে চুমুক দিচ্ছিল অনুষ্কা। জানলা দিয়ে বাইরের আকাশটার দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো, দুই বছর আগে সে ছিল টাকার পেছনে ছোটা এক সাধারণ চাকরিজীবী। আর আজ, সে শুধু নিজের আর্থিক স্বাধীনতাই অর্জন করেনি, বরং হাজার হাজার নারীকে স্বাবলম্বী হওয়ার রাস্তা দেখিয়েছে।সোহিনি ঘরে ঢুকে অনুষ্কার কাঁধে হাত রাখল, “কী ভাবছিস রে অনু?”অনুষ্কা হেসে বলল, “ভাবছি, টাকা জমানো যদি একটা বীজ হয়, তবে সঠিক বিনিয়োগ হলো সেই গাছ, যা আজ আমাদের একটা আস্ত জঙ্গল এনে দিয়েছে।